০৯:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

মেধাবী রুকসানার অর্থের অভাবে পড়াশোনা অনিশ্চিত

  • আপডেট: ০৮:১৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮০০২

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সিংড়া গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী রুকসানা খাতুন এসএসসি পরীক্ষা জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে রাজশাহী শহরের একটি নামিদামি কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়ে মেয়েটির চোখে স্বপ্নের আলো জ্বলে উঠেছিল। সেই আলো দিন দিন খুবই ছোট হয়ে আসছে। ভর্তি হতে পারলেও, অর্থের অভাবে তার এখনও বই-খাতা কেনা সম্ভব হয়নি‌। অর্থের অভাবে শহরে থাকা আর পড়াশোনা করার জন্য মেসও ভাড়া নেওয়া হয়নি। এছাড়াও এতো দূর থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করে পড়াশোনা করাও সম্ভব নয়। এরমধ্যে তার মা বেশ কয়েক বছর ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার আশায় নিয়ে গেলে, অবস্থার অবনতি হলে, কর্তৃপক্ষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু টাকার অভাবে জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেয়াও সম্ভব হয়নি।

রুকসানার পরিবারটি খুবই গরীব তাদের বসবাস করার মতো ভালো ঘরবাড়িও নেই। দুটি টিনের ঘরে বাবা-মা ও এক মেয়ে থাকেন। বিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে প্রতিবেশী ও শিক্ষকরা সহায়তা করে এবং ফরম পূরণের টাকা দিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দেয় রুকসানা। এভাবে কষ্ট করে পড়াশোনা করে তার ফল এসেছিল জিপিএ-৫। পরে সে রাজশাহী সিটি কলেজে ভর্তি হয়।

রুকসানার বাড়ি রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার সিংড়া গ্রামে। তার পিতার নাম নূর মোহাম্মদ, সে একজন দিনমজুর। সে ধোপাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর রোকসানা যখন অর্থের অভাবে কলেজে ভর্তি হতে পারছিলেন না ঠিক সে সময় পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন পুঠিয়া উপজেলা সহকারী (ভূমি) কমিশনার শিবু দাশ। তিনি এখন ভর্তি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। কিন্তু কলেজে ভর্তিই শেষ কথা নয়। রাজশাহী শহরে থেকে পড়তে হলে লাগবে থাকা-খাওয়া, বই-খাতা ও যাতায়াতের খরচ। সেই টাকা কোথা থেকে আসবে, জানে না রুকসানা ও তার পরিবার।

এসব ঘটনার মধ্যে রুকসানার মা রাফিয়া বেগম কিডনি রোগে আক্রান্ত। গত অক্টোবর মাসের ১৮ তারিখ পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সংশ্লিষ্টরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দিলে সেখানে পাঠানো বা ঔষধপত্র কেনার সামর্থ্য না থাকা রোকসানার পিতা দিনমজুর নুর মোহাম্মদ বিত্রীকে বাসায় এনে রেখে দিয়েছেন। এমতাবস্থায় অর্থের অভাবে রুকসানার পড়াশোনা ও মায়ের চিকিৎসা সেবা দুটোই ঝুলে রয়েছে।

এসব বিষয়ে রুকসানা খাতুন বলেন, আমার আরো তিনটি বোন আছে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না। টাকা পয়সা দিয়ে সেভাবে সহায়তাও করতে পারে না কিন্তু আমি থেমে যেতে চাই না আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। পড়াশোনা করে বড় হয়ে পরিবার দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে চাই।

ধোপাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান (মন্টু) বলেন, আমার স্কুলে পড়াশোনা চলাকালীন সময়ে আমরা বিভিন্নভাবে তাকে সহায়তা করেছি এমনকি ফরম পূরণের সময় আর্থিকভাবে সহায়তা করে তাকে পরীক্ষা দেওয়ানা হয়েছে। এই মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়ালে সে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

মেধাবী রুকসানার অর্থের অভাবে পড়াশোনা অনিশ্চিত

আপডেট: ০৮:১৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সিংড়া গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী রুকসানা খাতুন এসএসসি পরীক্ষা জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে রাজশাহী শহরের একটি নামিদামি কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়ে মেয়েটির চোখে স্বপ্নের আলো জ্বলে উঠেছিল। সেই আলো দিন দিন খুবই ছোট হয়ে আসছে। ভর্তি হতে পারলেও, অর্থের অভাবে তার এখনও বই-খাতা কেনা সম্ভব হয়নি‌। অর্থের অভাবে শহরে থাকা আর পড়াশোনা করার জন্য মেসও ভাড়া নেওয়া হয়নি। এছাড়াও এতো দূর থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করে পড়াশোনা করাও সম্ভব নয়। এরমধ্যে তার মা বেশ কয়েক বছর ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার আশায় নিয়ে গেলে, অবস্থার অবনতি হলে, কর্তৃপক্ষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু টাকার অভাবে জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেয়াও সম্ভব হয়নি।

রুকসানার পরিবারটি খুবই গরীব তাদের বসবাস করার মতো ভালো ঘরবাড়িও নেই। দুটি টিনের ঘরে বাবা-মা ও এক মেয়ে থাকেন। বিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে প্রতিবেশী ও শিক্ষকরা সহায়তা করে এবং ফরম পূরণের টাকা দিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দেয় রুকসানা। এভাবে কষ্ট করে পড়াশোনা করে তার ফল এসেছিল জিপিএ-৫। পরে সে রাজশাহী সিটি কলেজে ভর্তি হয়।

রুকসানার বাড়ি রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার সিংড়া গ্রামে। তার পিতার নাম নূর মোহাম্মদ, সে একজন দিনমজুর। সে ধোপাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর রোকসানা যখন অর্থের অভাবে কলেজে ভর্তি হতে পারছিলেন না ঠিক সে সময় পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন পুঠিয়া উপজেলা সহকারী (ভূমি) কমিশনার শিবু দাশ। তিনি এখন ভর্তি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। কিন্তু কলেজে ভর্তিই শেষ কথা নয়। রাজশাহী শহরে থেকে পড়তে হলে লাগবে থাকা-খাওয়া, বই-খাতা ও যাতায়াতের খরচ। সেই টাকা কোথা থেকে আসবে, জানে না রুকসানা ও তার পরিবার।

এসব ঘটনার মধ্যে রুকসানার মা রাফিয়া বেগম কিডনি রোগে আক্রান্ত। গত অক্টোবর মাসের ১৮ তারিখ পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সংশ্লিষ্টরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দিলে সেখানে পাঠানো বা ঔষধপত্র কেনার সামর্থ্য না থাকা রোকসানার পিতা দিনমজুর নুর মোহাম্মদ বিত্রীকে বাসায় এনে রেখে দিয়েছেন। এমতাবস্থায় অর্থের অভাবে রুকসানার পড়াশোনা ও মায়ের চিকিৎসা সেবা দুটোই ঝুলে রয়েছে।

এসব বিষয়ে রুকসানা খাতুন বলেন, আমার আরো তিনটি বোন আছে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না। টাকা পয়সা দিয়ে সেভাবে সহায়তাও করতে পারে না কিন্তু আমি থেমে যেতে চাই না আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। পড়াশোনা করে বড় হয়ে পরিবার দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে চাই।

ধোপাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান (মন্টু) বলেন, আমার স্কুলে পড়াশোনা চলাকালীন সময়ে আমরা বিভিন্নভাবে তাকে সহায়তা করেছি এমনকি ফরম পূরণের সময় আর্থিকভাবে সহায়তা করে তাকে পরীক্ষা দেওয়ানা হয়েছে। এই মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়ালে সে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।