০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জ সহযোগীদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাহেব আলীর মৃত্যু

  • আপডেট: ১১:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮০০৭

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডাকাত সর্দার সাহেব আলীকে (৪০) গুলি করে হত্যা করেছে তারই সহযোগীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর সন্ধ্যা) ৬ টার দিকে আটি ওয়াপদা কলোনি বউবাজার দশতলা ভবন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মো. এমদাদুল হক। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (আপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী।

নিহত সাহেব আলী ওয়াপদা কলোনি বউবাজার এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীকর্মকান্ড ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১ ডজনের অধিক মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রনি ও রঙমিস্ত্রি আসলাম নামে দুজন ব্যক্তি সাহেব আলীকে লক্ষ্য করে পর পর দুটি গুলি করেন। একটি গুলি লাগার পর সাহেব আলী মজুমদার খালের পানিতে পড়ে যায়। পরে আরেকটি গুলি তার শরীরে লাগে। একটি গুলি তার মাথায় আরেকটি বুকে লাগে। গুলিবৃদ্ধ হওয়ার পর ইট দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। পরে তার স্বজনরা এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের তথ্য মতে, নিহত সাহেব আলীর বিরুদ্ধে অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে। তিনি ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালায় র‌্যাব-১১ (বর্তমান এসআরবি)। অভিযানের সময় সাহেব আলীর নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী বাহিনী র‌্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে র‌্যাবের চার সদস্য আহত হন। সে সময় সাহেব আলী পালিয়ে যান। তখন থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মো. এমদাদুল হক বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬ টার মধ্যে সাহেব আলীকে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে স্বজনরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৭ টার দিকে তিনি মারা গেছেন।

এদিকে রাত ৮ টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, নিজ সহযোগীদের গুলিতে সাহেব আলীর মৃত্যু হয়েছে। আমরা সিসি টিভির একটি ভিডিও সংগ্রহ করেছি। সেখানে কারা তাকে হত্যা করেছে তা সনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন তাদের পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছেনা।

তিনি আরো বলেন, নিহত সাহেব আলী একজন সন্ত্রাসী ও ডাকাতির মত অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বহু মামলা রয়েছে। তবে তিনি অপরাধী হলেও যারা তাকে হত্যা করেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

সিদ্ধিরগঞ্জ সহযোগীদের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাহেব আলীর মৃত্যু

আপডেট: ১১:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডাকাত সর্দার সাহেব আলীকে (৪০) গুলি করে হত্যা করেছে তারই সহযোগীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর সন্ধ্যা) ৬ টার দিকে আটি ওয়াপদা কলোনি বউবাজার দশতলা ভবন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মো. এমদাদুল হক। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (আপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী।

নিহত সাহেব আলী ওয়াপদা কলোনি বউবাজার এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীকর্মকান্ড ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১ ডজনের অধিক মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রনি ও রঙমিস্ত্রি আসলাম নামে দুজন ব্যক্তি সাহেব আলীকে লক্ষ্য করে পর পর দুটি গুলি করেন। একটি গুলি লাগার পর সাহেব আলী মজুমদার খালের পানিতে পড়ে যায়। পরে আরেকটি গুলি তার শরীরে লাগে। একটি গুলি তার মাথায় আরেকটি বুকে লাগে। গুলিবৃদ্ধ হওয়ার পর ইট দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। পরে তার স্বজনরা এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের তথ্য মতে, নিহত সাহেব আলীর বিরুদ্ধে অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে। তিনি ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালায় র‌্যাব-১১ (বর্তমান এসআরবি)। অভিযানের সময় সাহেব আলীর নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী বাহিনী র‌্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে র‌্যাবের চার সদস্য আহত হন। সে সময় সাহেব আলী পালিয়ে যান। তখন থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মো. এমদাদুল হক বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬ টার মধ্যে সাহেব আলীকে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে স্বজনরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৭ টার দিকে তিনি মারা গেছেন।

এদিকে রাত ৮ টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, নিজ সহযোগীদের গুলিতে সাহেব আলীর মৃত্যু হয়েছে। আমরা সিসি টিভির একটি ভিডিও সংগ্রহ করেছি। সেখানে কারা তাকে হত্যা করেছে তা সনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন তাদের পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছেনা।

তিনি আরো বলেন, নিহত সাহেব আলী একজন সন্ত্রাসী ও ডাকাতির মত অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বহু মামলা রয়েছে। তবে তিনি অপরাধী হলেও যারা তাকে হত্যা করেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।