সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ; মসজিদ ভেঙে জমিদখল করতে মরিয়া ভূমিখেকো শহিদুল
- আপডেট: ০৮:০৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৮০৫৪
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের সাবেক যুগ্নসম্পাদক দাবিদার ভূমি খেকো শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এবার ওয়াকফকৃত মসজিদের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। জাল দলিল তৈরি করে মসজিদের জমিকে নিজের দাবি করে শহিদুল ইসলাম ৩০-৩৫ বছর আগে নির্মিত দুতলা পাকা মসজিদ ভেঙে বাণিজ্যিক বহুতল ভবন নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। ভূমি খেকোর কবল থেকে মসজিদের জমি রক্ষা করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা আবুল খায়ের।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক বাসস্ট্যা- সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ১৯৯২ সালে ২৪৩৭ ও ২৪৩৮ নং দলিলে খর্দ্দঘোষপাড়া মৌজায় এসএ ১০৩ ও আরএস ৫৩০ দাগে ৭ শতাংশ জমি কিনে নিজের নামে নামজারী করেন শিল্পপতি হাজী সালাউদ্দিন মিয়া। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্ত কর্মচারীরা নামাজ আদায় করার জন্য হাজী সালাউদ্দিন মিয়া ওই জমিতে একটি দুতলা মসজিদ নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ২০০২ সালের ৪ এপ্রিল ১৩৭১ ও ৭০১ নং ওয়াকফ নামা দলিলে ৭ শতাংশ জমি দারস সালেহ জামে মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন। প্রতিষ্ঠলগ্ন থেকে নিজস্ব ট্রাষ্ট থেকে মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিনের বেতন দিয়ে আসছেন।
এ অবস্থায় সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি এলাকার শহিদুল ইসলাম জাল দলিল সৃজন করে জমির মালিকানা দাবি করে মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনকে হুমকি ধামকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। মসজিদের মোতাওয়াল্লি ও তার পরিবারের কাউকে না জানিয়ে নিজ স্বার্থ হাসিল করতে ভূমি খেকো শহিদুল ইসলাম মসজিদ ভেঙে ফেলে।
অভিযোগ আরো উল্লেখ করা হয়েছে, মহাসড়কের পাশে সরকার জমি অধিগ্রহণ করেছেন। এখানে সদাশয় সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ চলমান। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পরিবহন যাত্রীসাধারণের কথা বিবেচনা করে সরকার মসজিদের জমি অধিগ্রহণ না করে বহাল রাখেন। অথচ ভূমিখেকো শহিদুল ইসলাম নিজ লাঠিয়াল বাহিনী কাজে লাগিয়ে মসজিদ ভেগে অপসারণ করে জামি দখল করে নিজ স্বার্থ হাসিল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অথচ চলমান বিডিএস ভূমি জরিপে মসজিদটির নকশা ও পৃথক প্লট সৃজন করে রেকর্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। নকশা ও পর্চায় জমির শ্রেণি মসজিদ দেখানো হয়েছে। তাই মসজিদ ভেঙে জমির শ্রেণি ভিটা দেখাতে শহিদুল ইসলাম মসজিদ ভেঙেছে।
জমি দাতা মরহুম সালাউদ্দিন মিয়ার ছেলে জসিম মিয়া বলেন, মসজিদের নামে ৭ শতাংশ জমি ওয়াকফ করে দিয়েছেন আমার বাবা। শহিদুল ইসলামসহ সঙ্গবদ্ধ একটি ভূমিদস্যু চক্র মসজিদ ভেঙে ফেলেছে জানতে পেরেছি। ব্যস্থতার কারণে যেতে পারছিনা। স্থানীয়দের কাছে আমার অনুরোধ তারা যেন মসজিদের জমি রক্ষা করার উদ্যোগ নেন।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বলেন, মসজিদটি নিচু হয়ে গেছে। বর্ষকালে পানি উঠে। তাই পুনঃনির্মাণের জন্য ভাঙা হয়েছে। সামাজিকভাবে আলোচনা না করে আপনি একক সিদ্ধান্তে মসজিদ কি করে ভাঙেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্রয়সূত্রে এ জমির মালিক আমি। এখানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। তবে নিচ ও দ্বিতীয় তলাটি মসজিদ হিসেবেই থাকবে। মসজিদের দেখা শোনা আমিই করবো।












