০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

অনৈতিক সম্পর্ক’ প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কেশবপুরে জোড়া খুন

  • আপডেট: ০১:৫৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৮০০৯

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ  আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছেযশোরের পুলিশ। ‘পরকীয়া সম্পর্ক’ প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে খুন করা হয়েছে স্বামী ও স্ত্রীকে। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) ও মোস্তফা কামাল (৪৫) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঁচিও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার জেসমিন বেগম কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের সরদারপাড়ার নুর ইসলাম সরদারের স্ত্রী ও মোস্তফা কামাল একই এলাকার মৃত কেসমত সরদারের ছেলে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার দুজন হলেন, কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের মাগুরখালী কমলাপুর গ্রামের আলেক সরদার (৪৬) ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৮)।

মঙ্গলবার (৩নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের প্রেস ব্রিফিং এতথ্য জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম ও কেশবপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক জানান, গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানখেতে সেচ মেশিনের পানি পড়ার স্থানে অজ্ঞাতপরিচয় দুজনের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্ত করে। পরে নিহতদের মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গত সোমবার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য ও তদন্তে মোস্তফা কামালের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসে।

পুলিশের কাছে দেওয়া জেসমিনের জবানবন্দির বরাত দিয়ে তিনি জানান, জেসমিন বেগম ও নিহত মাজেদা অভয়নগরের আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন। মোস্তফা কামালের সঙ্গে জেসমিনের প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে সম্পর্ক ছিল। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে ঘাস কাটতে মাঠে যান জেসমিন ও মাজেদা।

মাঠে যাওয়ার পথে মোস্তফার সঙ্গে জেসমিনের দেখা হয়। এ সময় তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় মোস্তফা ও জেসমিন কলমিশাক তোলার কথা বলে মাজেদা ও তার স্বামী আলেককে নুর ইসলামকে ঘেরের পাশে নিয়ে যান। তালতলার ভেড়ির কাছে পৌঁছালে মোস্তফা হাতে থাকা পাসনি (নিড়ানি) দিয়ে আলেককে আঘাত করেন। পরে মাজেদার ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। আলেককে মারধর করে পুরোনো সেলো মেশিনের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। মাজেদা তখনো শ্বাস নিচ্ছিলেন। এ সময় কাঁচি দিয়ে তার তলপেট ও পা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তাকেও ওই গর্তে ফেলে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

অনৈতিক সম্পর্ক’ প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কেশবপুরে জোড়া খুন

আপডেট: ০১:৫৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ  আলোচিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছেযশোরের পুলিশ। ‘পরকীয়া সম্পর্ক’ প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে খুন করা হয়েছে স্বামী ও স্ত্রীকে। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) ও মোস্তফা কামাল (৪৫) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঁচিও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার জেসমিন বেগম কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের সরদারপাড়ার নুর ইসলাম সরদারের স্ত্রী ও মোস্তফা কামাল একই এলাকার মৃত কেসমত সরদারের ছেলে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার দুজন হলেন, কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের মাগুরখালী কমলাপুর গ্রামের আলেক সরদার (৪৬) ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৮)।

মঙ্গলবার (৩নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশের প্রেস ব্রিফিং এতথ্য জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম ও কেশবপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক জানান, গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানখেতে সেচ মেশিনের পানি পড়ার স্থানে অজ্ঞাতপরিচয় দুজনের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্ত করে। পরে নিহতদের মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গত সোমবার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্য ও তদন্তে মোস্তফা কামালের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসে।

পুলিশের কাছে দেওয়া জেসমিনের জবানবন্দির বরাত দিয়ে তিনি জানান, জেসমিন বেগম ও নিহত মাজেদা অভয়নগরের আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন। মোস্তফা কামালের সঙ্গে জেসমিনের প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে সম্পর্ক ছিল। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে ঘাস কাটতে মাঠে যান জেসমিন ও মাজেদা।

মাঠে যাওয়ার পথে মোস্তফার সঙ্গে জেসমিনের দেখা হয়। এ সময় তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় মোস্তফা ও জেসমিন কলমিশাক তোলার কথা বলে মাজেদা ও তার স্বামী আলেককে নুর ইসলামকে ঘেরের পাশে নিয়ে যান। তালতলার ভেড়ির কাছে পৌঁছালে মোস্তফা হাতে থাকা পাসনি (নিড়ানি) দিয়ে আলেককে আঘাত করেন। পরে মাজেদার ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। আলেককে মারধর করে পুরোনো সেলো মেশিনের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। মাজেদা তখনো শ্বাস নিচ্ছিলেন। এ সময় কাঁচি দিয়ে তার তলপেট ও পা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তাকেও ওই গর্তে ফেলে দেওয়া হয়।