০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

পরকীয়ার জেরে রঙমিস্ত্রি আবরাহামকে হত্যা

  • আপডেট: ১২:২২:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৮০১১

সিদ্ধিরগঞ্জ(নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে চাঞ্চল্যকর রঙমিস্ত্রি আবরাহাম খান ওরফে আলিম খান হত্যায় জড়িত মো. রুহুল আমিন ওরফে রাব্বি (২৬) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরকীয়াজনিত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাÐ ঘটে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) সংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তার আগে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রুহুল আমিন ওরফে রাব্বি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার কাচারীপাড়া এলাকার মো. মনজু শেখের ছেলে। আর নিহত রঙমিস্ত্রি আবরাহাম খান (২৭) একই উপজেলার ওয়াজেদ আলি খানের ছেলে।
পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ জানায়, গত ১৬ ডিসেম্বর সকালে আড়াইহাজারের শ্রীনিবাসদী এলাকায় বালুর মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পাশ থেকে মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
তদন্তে জানা যায়, আবরাহাম খান ১৫ ডিসেম্বর সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি থেকে বের হন। একই দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বোনের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয়। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ওয়াজেদ আলী খান বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রুহুল আমিন হত্যাকাÐে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, নিহতের সঙ্গে তার খালার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হলে আবরাহাম তার খালাকে বø্যাকমেইল করতে শুরু করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে খালাকে নিয়ে পরিকল্পনা করে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর আবরাহামকে রাজবাড়ী থেকে আড়াইহাজারে ডেকে এনে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে পরিচয় গোপন করতে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে দা ও মস্তক একটি ব্যাগে ভরে পার্শ্ববর্তী খালে ফেলে দেওয়া হয়। নিহতের পরিহিত জামাকাপড়ও খুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয়দের দেখানো মতে একটি খাল থেকে মস্তক, হত্যায় ব্যবহৃত দা ও জ্যাকেটের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, হাত্যার পরিকল্পনায় জড়িত আসামির খালা ও অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার রাব্বিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

পরকীয়ার জেরে রঙমিস্ত্রি আবরাহামকে হত্যা

আপডেট: ১২:২২:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

সিদ্ধিরগঞ্জ(নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে চাঞ্চল্যকর রঙমিস্ত্রি আবরাহাম খান ওরফে আলিম খান হত্যায় জড়িত মো. রুহুল আমিন ওরফে রাব্বি (২৬) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরকীয়াজনিত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাÐ ঘটে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) সংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তার আগে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রুহুল আমিন ওরফে রাব্বি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার কাচারীপাড়া এলাকার মো. মনজু শেখের ছেলে। আর নিহত রঙমিস্ত্রি আবরাহাম খান (২৭) একই উপজেলার ওয়াজেদ আলি খানের ছেলে।
পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ জানায়, গত ১৬ ডিসেম্বর সকালে আড়াইহাজারের শ্রীনিবাসদী এলাকায় বালুর মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পাশ থেকে মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
তদন্তে জানা যায়, আবরাহাম খান ১৫ ডিসেম্বর সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি থেকে বের হন। একই দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বোনের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয়। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ওয়াজেদ আলী খান বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রুহুল আমিন হত্যাকাÐে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, নিহতের সঙ্গে তার খালার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হলে আবরাহাম তার খালাকে বø্যাকমেইল করতে শুরু করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে খালাকে নিয়ে পরিকল্পনা করে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর আবরাহামকে রাজবাড়ী থেকে আড়াইহাজারে ডেকে এনে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে পরিচয় গোপন করতে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে দা ও মস্তক একটি ব্যাগে ভরে পার্শ্ববর্তী খালে ফেলে দেওয়া হয়। নিহতের পরিহিত জামাকাপড়ও খুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয়দের দেখানো মতে একটি খাল থেকে মস্তক, হত্যায় ব্যবহৃত দা ও জ্যাকেটের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, হাত্যার পরিকল্পনায় জড়িত আসামির খালা ও অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার রাব্বিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।