সিরাজগঞ্জে আগাম আমন ধান ঘরে তোলার ধুম
- আপডেট: ০৬:২০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৮০১৮
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: আবহাওয়া অনুকূলে থাকা ও সময়মতো যথাযথ পরিচর্যার কারণে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় আগাম জাতের রোপা আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ দিন পর বাম্পার ফলন দেখে জেলার কৃষককুলের মনে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও আনন্দের হাসি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জ জেলায় মোট ৭৬ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। এর মধ্যে শুধু সদর উপজেলায় ১৪ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে। জেলার কাজিপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের শিষ বাতাসে দুলছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক ধান কেটে ঘরেও তুলেছেন।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠে মাঠে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের উৎসবমুখর কর্মযজ্ঞ লক্ষ্য করা গেছে। চাষাবাদের শুরু থেকে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্য বছরের তুলনায় এবার ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে।
কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের দুর্গতি পাড়া এলাকার চাষী রঞ্জু মিয়া জানান, ‘তিন বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। ইতোমধ্যে দুই বিঘা জমির ধান কেটে ভালো ফলন পেয়েছি। তবে এবার সার, বীজ ও শ্রমিক মজুরি বেশি পড়েছে। বাজারে ধানের চড়া দাম না পেলে আমাদের লাভবান হওয়া কঠিন হবে।’
মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগাম জাতের ধান ঘরে তোলার পর এই জমিগুলোতে পরবর্তী সময়ে আগাম সরিষা চাষের পরিকল্পনা করছেন তাঁরা। এতে কৃষকদের দ্বিগুণ আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মওলা বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। কৃষকরা যাতে নির্বিঘ্নে ধান কাটা ও সংরক্ষণ করতে পারেন, সেজন্য মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
তবে বাম্পার ফলনের আনন্দ থাকলেও বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে প্রান্তিক কৃষকদের লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞরা।










